বিশ্বকাপের যত মজার ও বিচিত্র ঘটনা

বিশ্বকাপের যত মজার ও বিচিত্র ঘটনা

বিশ্বকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপের মাসকট ‘জাভিবাকা’। ১৪ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ফুটবলের মহোৎসবে মাঠ মাতাবেন বিশ্বসেরা তারকারা। প্রিয় দেশের পাশাপাশি প্রিয় খেলোয়াড়কে সমর্থন জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভক্তকুল। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক রাশিয়া এবং সৌদি আরবের ম্যাচ দিয়ে বাজবে বিশ্বকাপের দামামা। সেই সঙ্গে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ফুটবল উন্মাদনায় মাতবে বিশ্ব।

প্রত্যেক বিশ্বকাপেই ঘটে নানারকম মজাদার ও বিচিত্র সব ঘটনা। সে রকম ঘটনাকে নিয়েই আজকে আমাদের এই প্রতিবেদন।

কুলিং ব্রেক
ম্যাচের তখন ৩০ মিনিট চলছে। হঠাৎ করেই রেফারির বাঁশি। কোন ধরনের ফাউল ছাড়াই খেলা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করা হয়। এমন বিরতির নাম ‘কুলিং ব্রেক’। ২০১৪ বিশ্বকাপে প্রচণ্ড গরমে পানি পানের বিরতি দেয়া হয় যা। সেবারই প্রথম এই নিয়ম চালু করা হয়। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তাপমাত্রা যদি ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর হয় তাহলে ম্যাচের ৩০ মিনিট হলে বিরতি দিতে পারবেন ম্যাচ রেফারি।

কুয়েতের প্রিন্সের খেলা বয়কটের নির্দেশ
খেলা চলাকালীন সময়ই দর্শক গ্যালারি থেকে কুয়েতের প্রিন্স কুয়েত দলকে মাঠ থেকে উঠে আসার জন্য নির্দেশ দেয়। ফ্রান্সের করা একটি বিতর্কিত গোলের প্রতিবাদেই এমন নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু প্রিন্সের কথা মান্য করেননি কুয়েতের খেলোয়াড়রা। তাঁরা মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃত জানায়। এইসব হট্টগোলের পরে অবশ্য লাভ হয় কুয়েতের। গোলটি বাতিল করা হয়।

শান্তির বার্তাবাহক ইরান!
১৯৯৮ সালে শান্তির বার্তা নিয়ে আসে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ম্যাচে আগে ইরানের প্রত্যেকটি খেলোয়াড়দের হাতে ছিল ফুলের তোঁড়া। ফুলের তোঁড়া দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি খেলোয়াড়কে শুভেচ্ছা যায় ইরান। শুধু তাই নয় প্রথা ভেঙ্গে তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ম্যাচ শুরুর আগে ছবি তোলে এই দুই দল। ম্যাচটা অবশ্য জিতে নিয়েছিল ইরান।

গোল পোস্ট দুই ভাগ
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। হলিউড স্টাইলে নাচে গানে জমকালো অনুষ্ঠান দিয়ে বিশ্বকাপের উদ্বোধন করা হয়। এই অনুষ্ঠানেই একটি মজাদার ঘটনা ঘটে। দৃশ্য সাজানো হয়েছিলো গানের তালে তালে গায়িকা বল সজোরে গোল পোস্টে পা দিয়ে গোল দিবেন। আর মাঝে দিয়ে দুই ভাগ হয়ে যাবে গোল পোস্ট। কিন্তু গায়িকা একে বারে সামনে থেকে বলে কিক দিলেও বল চলে যায় গোল পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী গোল পোস্ট ঠিকই দুই ভাগ হয়ে যায়।

খেলার মাঝে গোল পোস্ট পরিবর্তন
সাজানো নাটক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হলেও সত্যি সত্যি বিশ্বকাপেই ঘটে সেরকমই একটি ঘটনা। বুলগেরিয়া ও মেক্সিকোর ম্যাচে গোল পোস্টের এক পাশ ভেঙ্গে যায়। কিছুক্ষণ পর নতুন একটি গোল পোস্ট এনে সেখানে বসিয়ে আবারও ম্যাচ শুরুর নির্দেশ দেয় রেফারি।

ম্যাচ চলাকালীন নিরবতা
১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে ঘটেছিল এক অবাক করা কাণ্ড। খেলা চলাকালীন সময়ই এক মিনিটের জন্য সবাই যে যার জায়গায় দাঁড়িয়ে গেল। ম্যাচের দুই দিন আগেই আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মারা গেলে তাঁর সম্মানেই জানানো হয় এক মিনিটের নিরাবতা। ওইদিন দুই খেলা হয়। দুইটি খেলাতেই চলে এমন ঘটনা। খেলার মাঠে ম্যাচ চলাকালীন সময়ে এভাবে সম্মান জানানোর ঘটনা বেশ বিরল।

প্রতিপক্ষের ঘরে গোলকিপার
বিশ্বকাপের মতন আসরে গোলকিপার হয়ে প্রতিপক্ষের শিবিরে ফ্রি কিক নেয়া সহজ কাজ না। কিন্তু এই সাহসের কাজটিই করেছে হোশে লুই চিলাভাট। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ আসরে প্রথম কোন গোলকিপার গোল করার খুব কাছেই চলে গিয়েছিল। কিন্তু পেরাগুয়ের এই গোল কিপারের এক দুর্দান্ত শট ঠেকিয়ে দেন বুলগেরিয়ান গোলকিপার। ২০০২ সালেও স্লোভেনিয়ার বিপক্ষেও মাঝ মাঠ থেকে নিয়েছিলেন অসাধারণ এক ফ্রি কিক। সেটাও ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার।

পারিবারিক ঐতিহ্য লাল কার্ড
১৯৯৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বেপেতকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ক্যামেরুনের রিগবার্ড সং। সবচেয়ে কম বয়স মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপে লাল কার্ড খাওয়ার রেকর্ড এটি। ১৯৯৮ সালে অদ্ভুত এক চুলের স্টাইল করে মাঠে নামেন। কিন্তু স্টাইল অপরিবর্তিত থাকলে লাল কার্ড খাওয়া থেমে থাকেনি তাঁর। চিলির বিপক্ষে আবারও তিনি লাল কার্ড দেখেন। ঘটনার ১৬ বছর পর ক্যামেরুনের দলে সুযোগ পায় রিগবার্ডের চাচাতো ভাই এলেক্স সং। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেই তাঁর চাচাতো ভাইয়ের মতনই লাল কার্ড দেখেন এবং পারিবারিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখেন। বিশ্বকাপের মতন আসরে একই পরিবারের ৩ লাল কার্ডের ঘটনা আর নেই। বাংলা ইনসাইডার